হাওরের কান্না থামবে কি শুধু বাঁধে!

আজাদুর রহমান চন্দন

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলার বড় অংশই হাওর। আর ওসব হাওরে বছরে একটিই মাত্র ফসল হয়, বোরো ধান। কিন্তু গত দুই দশকে গড়ে প্রতি তিন বছরেও একবার পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি 4হাওরের কৃষকরা। টানা কয়েক বছর ফসল মার যাওয়ার পর ২০০৮ সালে হাওরে বোরো ধান কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। এর পরের ৯ বছরের মধ্যে মাত্র দুবার পুরো ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হন হাওরের কৃষক। অসময়ে কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে এ বছর ধান গাছে থোর আসতে না আসতেই কোথাও বাঁধ ভেঙে, কোথাও বাঁধ উপচে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে প্রায় সব হাওর। আগের বছর হাওরে বাঁধ ভেঙে কোথাও পাকা, কোথাও আধাপাকা বোরো ধান নষ্ট হয়েছিল চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখের শুরুতে। সে বছর ৪০ শতাংশের মতো ফসল তুলতে পেরেছিলেন হাওরের কৃষকরা। ২০১৫ সালে অকাল বন্যায় হাওরে ফসল নষ্ট হয়েছিল শতকরা ৪০ ভাগের মতো।
বেশ কয়েক বছর আগে বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএসের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত— পাঁচ বছরে শুধু সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ফসলের ক্ষতি হয় ৫৮৭ কোটি ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকার। অন্যান্য সূত্রের হিসাবে অবশ্য ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ২০০৪ সালের মে মাসে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সহায়তায় রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘হাওরবাসী রক্ষায় নাগরিক উদ্যোগ’-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই বছর এপ্রিলে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জে বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছিল ৪৫০ কোটি টাকার।
পাহাড়ি ঢলে প্রায় বছরই বোরো ফসলের এ রকম ক্ষতি হয়ে থাকে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওরাঞ্চলেও। Continue Reading →

যারাই ঘটিয়েই থাকুক ঘটনাটি শোকের উদ্বেগের

আজাদুর রহমান চন্দন

আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে লেখক, ব্লগার, পুরোহিত, সেবায়েতসহ এ ধরনের বেশ কিছু লোককে হত্যা করা হয়েছে অনেকটা একই কায়দায়। এসব হত্যাকাণ্ডকে কেউ বলছে গুপ্ত হত্যা, কেউ বলছে টার্গেটেড কিলিং। mournবেশিরভাগ ঘটনার ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের নামে হত্যার দায় স্বীকার করে বার্তা প্রচার করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। আর ওই দাবি যে সঠিক তা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরীয়া চেষ্টা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। গতরাতে রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় বিদেশিহ বেশ কিছু লোককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তার দায়ও যথারীতি স্বীকার করা হয়েছে আইএসের নামে সেই সাইটেরই টুইট বার্তায়। এ নিয়ে উচ্ছাস লুকাতে পারছে না দেশের সরকারবিদ্বেষী কিছু লোক। তারা জোর গলায় বলছে, সরকার এতদিন দেশে আইএসের অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসলেও এবার আর তা পারবে না! এ কথা তারা এমনভাবে বলছে যেন দেশে আইএসের অস্তিত্ব প্রমাণ হলে তাতে তাদের খুবই লাভ! Continue Reading →

দূষণে বাড়ছে বজ্রপাত, বাড়ছে প্রাণহানি

আজাদুর রহমান চন্দন

এখন থেকে ১৫-২০ বছর আগেও বজ্রপাত মানুষের কাছে তেমন আতঙ্কের বিষয় ছিল না। আমাদের দেশে কয়েক থানা এলাকা ঘুরে হয়তোবা বজ্রপাতে ওপরের অংশ পুড়ে যাওয়া দু-একটি নারিকেল বা তালগাছের দেখা lightingপাওয়া যেত। কিন্তু গত সাত-আট বছর ধরে ঝড়ের মৌসুমে বাজ পড়ে মানুষের প্রাণহানিটা যেন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেশে বজ্রপাত এবং এর দরুন প্রাণহানি ও ক্ষয়তির মাত্রা দিন দিনই বাড়ছে। কিন্তু এতদিন এ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথাও লক্ষ্য করা যাচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া এবং পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রাণহানির সংবাদ সংগ্রহ করার মাধ্যমেই তাদের দায়িত্ব সারছিল। বজ্রপাত বাড়ার কারণ জানা বা প্রতিরোধের উপায় বের করার বিষয়ে কোনো গবেষণা তো নেই-ই কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের, এমনকি বজ্রপাতে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উপায় নিয়ে চিন্তাও ছিল এতদিন অনুপস্থিত। ২০০৮ সাল থেকে পর পর কয়েক বছর বজ্রপাত নিয়ে লিখেছি জাতীয় দৈনিকে। প্রতিবারই লেখার আগে কথা বলেছি আবহাওয়া অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (বর্তমানে অধিদপ্তর), বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো), সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রের (এসএমআরসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সবাই একই কথা জানিয়েছেন, বজ্রপাত নিয়ে কোনো গবেষণা নেই তাদের। এমনকি বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে মানতেও রাজি হননি তখনকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর কর্মকর্তারা। ব্যুরোর তখনকার কমিউনিকেশনস ও মিডিয়া স্পেশালিস্ট সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, বজ্রপাত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটি দুর্যোগের সাইড ইফেক্ট (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) মাত্র। এ অবস্থায় ২০১২ সালে একটি লেখার শিরোনামই দিয়েছিলাম ‘আর কত প্রাণ গেলে তারে দুর্যোগ বলা যায়’ (https://chandan64kalantor.wordpress.com/2012/08/11/)। Continue Reading →

যুদ্ধাপরাধীর তালিকা সন্ধান

আজাদুর রহমান চন্দন

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ কালরাতে ঢাকায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে গণহত্যা আর ধ্বংসের যে তাণ্ডবলীলা শুরু করেছিল হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, দ্রুতই তারা এর বিস্তার ঘটিয়েছিল সারাদেশে। সেই রাতের Yahyaসামরিক অভিযানের ভয়াবহতা প্রকাশ করতে গিয়ে পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানেরই এক সেনা কর্মকর্তা তার বইয়ে লিখেছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই অ্যাকশন শুরু হয়ে গিয়েছিল।… খুলে গিয়েছিল নরকের সবকটি দরজা।’ এভাবেই হানাদাররা পরবর্তী ৯ মাসে গোটা বাংলাদেশকেই এক বিশাল নরকে পরিণত করেছিল, যা দেখে মার্কিন সাংবাদিক সিডিনি এইচ শনবার্গ নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছিলেন ‘‘বেঙ্গলি’স ল্যান্ড অ্যা ভাস্ট সিমেটারি’’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি সিকান্দর আবু জাফরের লেখা এক বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল পূর্বদেশ পত্রিকায়, যার শিরোনাম ছিল ‘গ্রামে গ্রামে বধ্যভূমি তার নাম আজ বাংলাদেশ’। আর গোটা বাংলাদেশকে বধ্যভূমি বানানোর সেই দুষ্কর্মে সক্রিয় সহযোগিতা করেছিল হানাদারদের স্থানীয় কিছু দোসর শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে নানা সংগঠন ও বাহিনী গড়ে। এদের মধ্যে আলবদর নামের জল­াদ বাহিনীটি হয়ে উঠেছিল হানাদার বাহিনীর ‘ডেথ স্কোয়াড’। নানা ত্রুটি-দুর্বলতা সত্ত্বেও শত বাধা-ষড়যন্ত্র পেরিয়ে আজ যখন বাংলাদেশ হানাদার-সহযোগী সেই জল্লাদদের বিচার করার মাধ্যমে সাড়ে চার দশকের পুরনো গ্লানি মোচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একাত্তরের পরাজিত ও হাল আমলের ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তান তার পুরনো দোসরদের পক্ষ নিয়ে কূটনৈতিক রীতিনীতি উপক্ষা করে এমন বাড়াবাড়ি শুরু করল যে দীর্ঘদিন পর খোদ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী-গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিটিও সামনে চলে এলো। এ অবস্থায় জোরেশোরেই শুরু হলো স্বাধীনতার পর বিচারের জন্য প্রস্তুত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা খোঁজাখুঁজি। কিন্তু বহুল আলোচিত সেই ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীর তালিকা পাওয়া গেল না কোথাও। না পাওয়ারই কথা! তবে ২০০ জনের একটি তালিকা এরই মধ্যে হাজির করা হলো একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এক সংগঠনের পক্ষ থেকে। প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে ওই তালিকা তুলে ধরা হলেও জানানো হয়নি তালিকাটি কোথা থেকে পাওয়া গেল। Continue Reading →

স্বীকৃতি

আজাদুর রহমান চন্দন

একাত্তরে আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের পরাজয় যখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে, তখন নিজামীর নেতৃত্বাধীন ওই জল্লাদ বাহিনীই পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ killers & collaboratorsসন্তান বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে ধরে নিয়ে টর্চার সেলে নির্যাতনের পর বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে নিষ্ঠুরতম কায়দায়। নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দল) উত্থাপন করা ফরমাল চার্জে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিবরণ থাকলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আকারে ছিল না। পরে অভিযোগ গঠনকালে ট্রাইব্যুনাল নিজ ক্ষমতাবলে নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬ নং অভিযোগ হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত করেন। এতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে নিজামীর ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ তুলে ধরা হয়। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির দণ্ড বহাল আছে আপিলের রায়েও।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামীর বিরুদ্ধে এই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষের পেশ করা যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে তার মধ্যে আমার লেখা ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা’ বইটিও আছে। Continue Reading →

একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা

Book Cover-killers & collaborators

 

 

 

 

 

 

 

 

বইটি পড়তে নিচে ক্লিক করুন

 

 

২. একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা Ekattorer Ghatok O Dalalra-3rd edition

১. যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা ১৯৭১ (দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০১১) Juddhaporadh o gonohotya 2nd Editon

অত্যাচারী বাপ-বেটার দর্প চূর্ণ একই কারাগারে

আজাদুর রহমান চন্দন

ফ. কা. চৌধুরী নামে পরিচিত চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (কনভেনশন) সভাপতি। ষাটের দশকে পাকিস্তানের মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের Dainik Pakistan 21-4-1971স্পিকারও হন ফ.কা.। সারা পাকিস্তানেই তিনি ছিলেন প্রচণ্ড প্রতাপশালী। ফ.কা. চৌধুরী এতটাই প্রভাবশালী ও দাম্ভিক ছিলেন যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করার পর মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, পিডিপিসহ দালাল দলগুলোর অন্য নেতারা দল বেঁধে গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ফ.কা. তার সঙ্গে দেখা করেছেন শুধু নিজ দলের জেনারেল সেক্রেটারি মালিক মোহাম্মদ কাসিমকে নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালে শান্তি কমিটিরও আলাদা একটি ধারা ছিল ফ.কা.র নেতৃত্বে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর তার প্রভাব ছিল যেমন অসীম, তেমনি চট্টগ্রামে মুক্তিকামী মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর তার নির্যাতনও ছিল অসহনীয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর থেকে আত্মসমর্পণের কয়েক দিন আগ পর্যন্ত তার বাসায় সব সময় মোতায়েন থাকত পাকিস্তান বাহিনীর এক প্লাটুন সৈন্য। ফ.কা.র অনুচরেরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে আনত নিরপরাধ লোকজন আর ছাত্রদের। এরপর এদের হাত-পা বেঁধে গিরায় গিরায় লোহার ডাণ্ডা দিয়ে পেটানো হতো। তার বাসায় নির্মম অত্যাচারের এতসব কায়দা ও ব্যবস্থা ছিল যে নীরোর যুগে জন্মালে তিনি নিশ্চয়ই প্রভোস্ট মার্শালের পদ পেতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফজলুল কাদের চৌধুরী ২৫ শে মার্চের পর থেকে চাটগাঁয় অত্যাচারের যে স্টিমরোলার চালিয়েছিলেন, আইকম্যান বেঁচে থাকলে এই অত্যাচার দেখে তাঁকে নিশ্চয়ই স্যালুট দিতেন।’ সংগত কারণেই হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর পর দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী এই জুলুমবাজ। Continue Reading →

ফাঁসিতে ঝুলতেই হলো ঘাতক সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদকে

আজাদুর রহমান চন্দন

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি অবশেষে কার্যকর করা হয়েছে। আদালতের রায় SaKa cartoon copyঅনুযায়ী আজ শনিবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে শীর্ষস্থানীয় এই দুই অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে আইজি প্রিজন্স জানান। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম কোনো মন্ত্রীর ফাঁসি কার্যকর হলো। দুই অপরাধীই ভিন্ন ভিন্ন সরকারের সময় মন্ত্রী ছিলেন। দুজনের মধ্যে একাত্তরের কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর প্রধান মুজাহিদের প্রাণদণ্ড দেওয়া হয় বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে। একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে এটিই প্রথম ফাঁসি। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ নিয়ে চারজনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ফাঁসি কার্যকর শেষে র‌্যাব ও পুলিশ প্রহরায় সাকা চৌধুরীর লাশ চট্টগ্রামে এবং মুজাহিদের লাশ ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিচার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দম্ভোক্তি প্রকাশকারী দুই মানবতাবিরোধী অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করার আগে কারাগার এলাকায় জড়ো হন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এবং গণজাগরণ মঞ্চের কয়েকজন কর্মী। তাঁরা সাকা ও মুজাহিদের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে স্লোগানও দেন। Continue Reading →

বিপন্ন পৃথিবী : জল জলবায়ু ও জীবন (Endangered Earth)

biponno prithibi -2 

 

 

 

 

 

 

 

 

Biponno Prithibi

Next Page